ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে খুন করেছিলেন নাথুরাম গডসে। এই খুনের ঘটনায় কোনো বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা বা কোনও ‘রহস্যজনক ব্যক্তি’ জড়িত ছিল না।সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ কথা জানিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী অমরেন্দ্র শ্যারন। তিনি দেশটির জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী হত্যাকাণ্ডে গডসে ছাড়া অন্য কারো জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
সোমবার কলকাতার প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয, প্রবীণ আইনজীবী শ্যারনের বক্তব্যের ভিত্তিতে গান্ধী হত্যাকাণ্ড পুনঃতদন্তের আর্জিও খারিজ করে দেন দেশটির শীর্ষ আদালত।
মহাত্মা গান্ধীকে নাথুরাম গডসে খুন করেননি, ওই হত্যাকাণ্ডে কোনো বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার হাত ছিল, এই দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পঙ্কজ ফড়নিশ।
তার বক্তব্য ছিল, ওই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংবাদপত্রেও বেরিয়েছিল, গান্ধীর শরীরে চারটি বুলেটের ক্ষত পাওয়া যায়। আর সেই চতুর্থ বুলেটটিই গান্ধীর শরীরে ঢুকে তার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। সেই বুলেটটি এসেছিল রহস্যময় কোনো ব্যক্তির বন্দুক থেকে, যিনি কোনও বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট হতে পারেন। পঙ্কজ নিজেকে বীর সাভারকরের অনুগামী বলেও দাবি করেছিলেন।
ফড়নিশের বক্তব্য ছিল, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে গডসের নাম জড়িয়ে মরাঠিদের, বিশেষ করে বীর সাভারকরকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গডসের কোনো ভূমিকা ছিল না। ফড়নিশ ওই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন।
ওই পিটিশনের পর প্রবীণ আইনজীবী শ্যারনকে গান্ধী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত যাবতীয় নথিপত্র পরীক্ষা করে তার মতামত জানাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
গান্ধী হত্যা মামলার ৪ হাজার পাতার রেকর্ড এবং ১৯৬৯ সালের জীবনলাল কাপুর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখে সোমবার তার মতামত শীর্ষ আদালতে জানান শ্যারন।
শ্যারন আদালতে জানান, চতুর্থ বুলেটই গান্ধীর শরীরে ঢুকে তার মৃত্যু ঘটিয়েছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর সেই বুলেট গডসে ছাড়া অন্য কারও বন্দুক থেকে ছোড়া হয়েছিল, মেলেনি এমন প্রমাণও।
তিনি আদালতে বলেন, গান্ধী হত্যাকাণ্ডে কোনো বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার ভূমিকা ছিল বলে পিটিশনে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। তার স্বপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। তাই ওই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের জন্য নতুন কোনো কমিশন গঠন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৫:৫০পিএম/৮/১/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি