

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে ভুট্টার। ফলনও হয়েছে বেশ। এরিমধ্যে সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টা। মাথায় লাল ফুল, গায়ে হলুদ বর্ণের এসব ভুট্টা দোলা খাচ্ছে বাতাসে। উৎপাদন বেশি, খরচ কম তাই ভুট্টচাষে আগ্রহ বেড়েছে এখানকার কৃষকদের।
পলাশবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে পলাশবাড়ী উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ধান চাষের পর ভুট্টা চাষটা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছ। একসাথে অনেকগুলো সুবিধার কারণে এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।
পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, আদিকাল থেকে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে আসছে। উচ্চফলন, বেশি লাভ আর চাহিদা অনেক থাকায় সম্প্রতি বছরগুলোতে ভুট্টা চাষাবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা ক্রয় করছেন।
পলাশবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার জানান, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মাটির উর্বরতা যেন ঠিক থাকে এবং চাষীরা যাতে পরিকল্পিতভাবে ভুট্টার আবাদ করতে পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।
স্থানীয় ভুট্টা চাষীদের দাবি পলাশবাড়ী স্থানীয় কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হলে ভুট্টচাষীরা আরো ব্যাপক হারে এর চাষাবাদ এগিয়ে নিতে পারবে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৮:১৮পিএম/১৫/১/২০১৭ইং)
আপনার মতামত লিখুন :