বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ : মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি। এলাকায় তিনি এখন একজন আদর্শ কৃষাণী হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন। বাড়িতেই কেঁচো চাষের খামার গড়ে তুলেছেন।
২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা (সিসিডিবি) থেকে গ্রামে কেঁচো চাষের উপর একদিনের প্রশিক্ষণ হয়। সেখানে ৩৫জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। ওই সংস্থা থেকে একটি করে ডাবর (মাটির বড় পাত্র) ও কিছু কেঁচো ও উপকরণ দেয়া হয়।
‘প্রথমে আগ্রহ তৈরি হয় একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে কেঁচো চাষের খবর দেখার পর থেকে। কেঁচো চাষের পদ্ধতি যদি হাতে-কলমে শিখতে পারতাম। এই আগ্রহ থেকেই এই কেঁচো চাষের পদ্ধতিটির উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আমি কেঁচো চাষ করছি।’ কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের মৃধাপাড়ার লাল মিয়ার স্ত্রী কামরুন নাহার।
কেঁচো সার তৈরি করতে কামরুন নাহারকে বেশি বেগ পেতে হয় না। কারণ কেঁচো সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল গোবর। দুইটি গাভী রয়েছে তার। আছে দুটি গরুর বাচ্চাও। খামারে গরুগুলো সব সময় বাঁধা থাকে। সেখানে গরু পরিচর্যা করা হয়।
কেঁচো সার তৈরিতে প্রথমে গোবরকে বালু ও আবর্জনা মুক্ত করেন। এরপর একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মুখ বেঁধে ১০-১২ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে দেন। কারণ এ সময়ের মধ্যে গোবর থেকে গ্যাস বেরিয়ে যায় এবং কালচে রং ধারণ করে।
এরপর সেগুলো পলিথিনের বস্তার উপর ঢেলে রিফাইন করে বা পানি দিয়ে হালকা নরম করে ডাবরে রাখা হয়। সেখানে কেঁচো ছেড়ে দিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা হলে সার তৈরির কাজ শুরু হয়। কেঁচোর পরিমাণ বেশি হলে ১২-১৫ দিন, আর পরিমাণ কম হলে ১৮-২০ দিনের মতো সময় লাগে। বর্তমানে দুটি বড় এবং তিনটি মাঝারি আকারে ডাবরে কেঁচো সার তৈরি করছেন। বর্তমানে তাকে আর কেঁচো কিনতে হয় না।
গোবরের মধ্যে কেঁচো ডিম দেয় এবং সেখান থেকেই কেঁচোর বাচ্চা জন্মে। আর এ সারগুলো তিনি নিজের কাজেই ব্যবহার করেন। যেমন বেগুন, লাউ, আদা, হলুদ, শিম, মরিচ চাষে এবং নারকেল গাছের গোঁড়ায় ব্যবহার করেন। তবে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার টাকার কেঁচো বিক্রি করেছেন তিনি। আরো প্রায় চার হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে।
এছাড়া কেঁচো সার ১০ টাকা কেজি হিসেবে প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেছেন যেটা খুবই সামান্য। তার এ পদ্ধতি দেখে এখন অনেকেই কেঁচো সার তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫জন অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
সার্বিক সহযোগিতা পেলে ভবিষতে কেঁচো চাষ আরো বড় পরিসরে করার ইচ্ছে আছে বলে কামরুন নাহার জানান।
প্রতিবেশী গৃহবধূ জান্নাতুন নেছা বলেন, কেঁচো সার শিম গাছের গোঁড়ায় দিয়েছিলাম। কিছুদিন পর গাছের চেহারা সুন্দর হয়ে উঠে। এখন গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। আগামীতে নিজেরাই কেঁচো সার তৈরি করব। জমিতে ফসলের ক্ষেত্রে এটি খুবই উপকারী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেকেই কেঁচো চাষ শুরু করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে এখনো চাষ শুরু হয়নি। তবে আগামীতে কেঁচো চাষ আরো বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করা হবে। (পরিবর্তন)
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১০:১৭এএম/২০/২/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি