কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার বিজয় উল্লাস উদযাপন ও দূর্বৃত্তদের ভাঙচুর-লুটপাটের পর শান্তির শহর কুড়িগ্রাম ধীর গতিতে পুরনো যৌবনে ফিরছে। কুড়িগ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষজন কোন রাজনৈতিক আন্দোলনে এমন তান্ডব দেখেনি।
সারাদেশের মতো আজ মঙ্গলবার থেকে কুড়িগ্রামে খুলেছে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আদালত,ব্যাংক, সরকারি - বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
তবে সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে জন-শুন্য দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোতে হাতে-গোনা লোকজন আসলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছিলো একেবারেই নিরব। হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম সচল থাকলেও সরকারি দপ্তর ও থানা পুলিশের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো । জেলা প্রশাসক কার্যালয়,পুলিশ সুপার কার্যালয়, সার্কিট হাউজসহ জেলার একাধিক কার্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে মোতায়েন করা হয় বিজিবির সদস্যদের।
সোমবার আ.লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার প্রধান থেকে পদত্যাগ করার পর কুড়িগ্রামে একদিকে গান-কবিতায় বিজয় উল্লাস করা হলেও, অন্যদিকে জেলার একাধিক সরকারি অফিস,আ.লীগ নেতাদের বাড়ি-ঘর,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুবৃত্তরা।
গত সোমবার দুপুরের পর থেকে জেলা আ.লীগের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আ.লীগ কার্যালয়,জেলা পরিষদ ভাঙচুর করে সেখানে অবস্থিত আসবাবপত্র, ফটোকপি মেশিন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, টিভি, সিসি ক্যামেরা, সেলিংফ্যান,স্ট্যান্ট ফ্যান ও টেবিল-চেয়ার লুট করে নিয়ে যায় দূবৃত্তরা। এছাড়াও বাগানের লাইট,অফিসের প্রত্যেক কক্ষের থাইগ্লাস ভাঙা এবং জরুরী ফাইল পত্র নষ্ট করে দেয়া।
এছাড়াও আ.লীগ নেতা টিটু ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকুর রেস্টুরেন্ট রুপসী বাংলা, আরেক আ.লীগ নেতা মো.সাবু মিয়ার সার ও কীটনাশকের দোকান,আওয়ামী লীগ নেতা মিঠুর রাইস মিলস,উলিপুরের সাবেক এমপি এম এ মতিনের বাড়ি, রৌমারির সাবেক এমপি বিপ্লব হাসান পলাশের বাড়ি, চিলমারী উপজেলা পরিষদের বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল আওয়ামী লীগ নেতা লিচুর বাড়ি ভাংচুর, ,উলিপুর ও রাজারহাট প্রেসক্লাব ভাংচুর, ফুলবাড়ির ইউএনও কার্যালয়, ছাত্রলীগের কয়েকটি অফিস ,দখলকৃত পুকুরের মাছ ইত্যাদি। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের ফোন করে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। এক সাংবাদিক কে ফোন করে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর,মন্দির রক্ষার্থে কাজ করছে স্থানীয় ছাত্র জনতা। মসজিদের মাইকে
ঘোষনা দিয়ে সজাগ থাকতে বলা হচ্ছে জনসাধারণকে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল করতেও দেখা গেছে।
পৌর শহরের শিক্ষার্থী ইকবাল রাব্বী বলেন,’ আমরা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ আন্দোলন করার পর যে বিজয় অর্জন করেছি,সেটি রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। আমরা হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলেমিশে এ বাংলাদেশ গড়বো। গতকাল রাত থেকে আমরা মাইকে ঘোষনা দিয়ে সকলকে সজাগ করছি।’
কুড়িগ্রাম জগন্নাথ নামহট্ট মন্দিরের পুজারি নিখিল কৃষ্ণ দাস বলেন,’আমরা সকলে মিলে সজাগ আছি। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আমাদের সহযোগিতা করছে । কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী বলেন,‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা কোনও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নই এবং হবও না। গতকাল থেকে আমাদের ভাইরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন,’ জেলার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাঠে সেনাবাহিনী ও বিজিবির বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।’
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি