ফরিদুল ইসলাম(রঞ্জু), ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈল উপজেলার রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির মূল ফটকের সামনে প্রবেশ দ্বারে ইটের প্রাচী নির্মাণের কাজ চলছে।অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি তাদের নিজের স্বার্থে ৪০শতক জমি ১লক্ষ৩০ হাজার টাকা করে প্রতি শতক জমি বিক্রি করেছেন।যারা কিনেছেন তারা এই প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন।বিষয়টি নিয়ে পাশেই ইউনিয়ন ভুমি অফিসে গিয়ে প্রচীর নির্মাণের কথা জানতে চাইলে তাঁরা কিছুই জানেননা বলে জানান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,জনৈক আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি বিপ্লব ও মোস্তাকের কাছে উক্ত জমি বিক্রয় করে।তবে কি সূত্রে বিক্রয় করেছে তানা জানা যায়নি।সম্প্রতি বিপ্লব ও মোস্তাক উক্ত জমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছে,এতে রাজবাড়ির সৌন্দর্যহীন ও ভবিষ্যতে রাজবাড়ি ঐতিয্য হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের অভিমত এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্য হারাবে এই রাজবাড়ি কারণ ইতিমধ্যে রাজবাড়িরর পূর্ব-উত্তর পার্শ্বের ঘরের ভেতর একটি সুড়ঙ্গপথ ছিল,ধারণা করা হতো সেটির নিচে রাজার গোপন ঘর ছিল।একাধিকবার চেষ্টা করেও সেই ঘরে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।কারণ অন্ধকারাচ্ছন্ন সুরঙ্গপথ হওয়ায় টর্চ কিংবা কোন আলো নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গেলেই আলো নিভে যেতো।কথিত আছে একবার কুকুরের গলায় শিকল লাগিয়ে সুরঙ্গপথে পাঠানো হয়েছিল,শিকল ছিঁড়ে এসেছে কিন্তু কুকুরের আর হদিস মেলেনি।গোগন এই ঘরের রহস্য উদঘাটনের আগেই কে?বা কাহারা কি উদ্দেশ্যে সেই সুড়ঙ্গপথ বন্ধ করে দিয়েছে তা সঠিক ভাবে জানা যায়নি।ঠাকুরগাঁও এর সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল এই রাজবাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন,কিন্তু তাঁর বদলী হয়ে যাওয়াতে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।নবাগত জেলা প্রশাসক সদ্য এই জেলায় যোগদান করেছেন তারপরও তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। রানীশংকৈল উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সোহাগ রায় এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ইতিমধ্যে রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি ঘিরে কিছু স্থাপনা ছিল যা আমরা ইতিমধ্যে উচ্ছেদ করে তাদের মূল্যবান জমি দিয়ে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করেছি।সীমানা প্রাচীরের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি।ব্রিটিশ খতিয়ান অনুযায়ী জমির মালিক রাজা টংকনাথ হলেও এস,এ খতিয়ানে অন্য নাম আছে।কিভাবে অন্য নাম যুক্ত হলো তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।খুব শ্রীঘ্রই তাদের নোটিশ প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তবে যাই হোক ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিয্য প্রিয় মানুষ মনে করেন এই রাজবাড়ি রক্ষা ও সংস্কারের এখনই মোক্ষম সময়।নতুবা রাজবাড়ির ঐতিহ্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৭:৪৩পিএম/১৫/৩/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি