ছদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার-১ আসন সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের খুনিদেরকে সুনির্দিষ্ট ভাবে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। যার কারণে তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মাসুদ, যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলামসহ বেশ কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির কর্মীকে থানায় নেয়া হয়েছে। গাইবান্ধায় র্যাবের এএসপি হাবিবুর রহমান নেতাকর্মীদেরকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন
মামলার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য বের করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার মোটিভ সনাক্তের ব্যাপারে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মুখ খুলছেন না। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের গঠিত তদন্ত টিম তদন্ত কার্য পরিচালনা করেছেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান জানান- খুনিদেরকে সুনির্দিষ্ট ভাবে সনাক্ত করতে না পারায় গ্রেফতার সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা আশা করছি খুব শিঘ্রই খুনিদের ব্যাপারে পরিস্কার হতে পারব। তদন্তের মোটিভ কোন দিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পারিবারিক যে তথ্য গুলি আমরা পেয়েছি সে ব্যাপারে কেউই সুনির্দিষ্ট ভাবে স্বীকার করছেন না। তারপর পারিবারিক বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত কার্য এগিয়ে যাচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্যঃ এমপি লিটন হত্যার ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মাসুদকে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভাস্থ বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে গেছেন দাবী করেছেন তার পরিবার। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা তার গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে মুখ খোলেনি। এদিকে যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব তাদের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়েছিল সেটি স্বীকার করেছেন র্যাবের এ এসপি হাবিবুর রহমান। অপর দিকে বেশ কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির কর্মীকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সুন্দরগঞ্জ থানা হাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা সংস্থা। থানার ওসি আতিয়ার রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের সংখ্যা ও নাম প্রকাশে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন।
পুলিশ হত্যার ৫ আসামিকে খুঁজছেঃ এমপি লিটন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে পুলিশ হত্যা মামলার ৫ আসামীকে খুঁজছেন গোয়েন্দা সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলা জজ কোটে পুলিশ হত্যা মামলার ২১৮ জন আসামি হাজিরা দেন। এসময় ৫ জন আসামি অনুপস্থিত থেকেই হাজিরা স্বাক্ষর করেন। পরে সকল আসামিকে সেল ঘরে ঢুকালে দেখা যায় ৫ জন আসামি অনুপস্থিত। তাৎক্ষনিক ভাবে ওই ৫ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এখন ওই ৫ জন আসামিকে খুুঁজে বেড়াচ্ছেন।
এমপি লিটনের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন অনেকেরঃ এমপি লিটনের স্থাবর- অস্থাবর সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছেন অনেকের মাঝে। এমপির বাবা আশরাফ আলীর নামে একটি হিমাগার রয়েছে। ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, এমপি লিটন তার পতœী খুরশিদ জাহান হক স্মৃতি যৌথভাবে ওই হিমাগারের মালিক। কিন্তু হিমাগারের এমডির দায়িত্বে রয়েছেন এমপি পতœী। একজন কৃষি ব্যাংখ কর্মকর্তা জানান, সদ্য ওই হিমাগারের বিপরীতে ১৯ কোটি টাকা লোন পাস করা হয়েছে। অপর দিকে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ ফ্ল্যাট বাসার মালিকানা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। নাম প্রকাশ না করা সত্বে এমপির ঘনিষ্ট এক নেতা জানান, বর্তমানে ফ্ল্যাট বাসার মালিক এমপি পতœী। এছাড়া এমপির যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলেন তার পতœী স্মৃতি। জাতীয় সংসদের দেয়া শুল্ক মুক্ত গাড়িটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সম্পদের বিষয়টি হত্যা কান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না তা খতিয়ে দেখার দাবী নেতাকর্মীদের।
এমপির পিএস নিয়ে প্রশ্নঃ এমপি লিটনের পারসোনাল সেক্রেটারি (পিএস) নিয়ে প্রশ্ন অনেকের। কে কাগজ কলমে তার পারসোনাল সেক্রেটারি। সেটি জানেনা অনেকে। এব্যাপারে এমপির স্ব-ঘোষিত পারসোনাল সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সুজা জানান, এমপির পতœী খুরশিদ জাহান হক স্মৃতি লিখিত ভাবে পিএস। আমি এবং এমপির নিকট আত্মীয় ফিলিস্তিন তার স্ব-ঘোষিত পিএস ছিলাম। তবে অফিস আদালতে যাবতীয় কার্যক্রম এমপি পতœী স্মৃতি এবং ফিলিস্তিন করছিল। তিনি আরো বলেন দীর্ঘদিন থেকে ফিলিস্তিন এমপির ঢাকাস্থ বাসায় অবস্থান করে আসছেন। এমপির একমাত্র সন্তান রাতিনকে দেখ-ভাল করতেন ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিন এবং স্মৃতির মধ্যে ভালো যোগাযোগ ছিল।
বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহতঃ এমপি লিটন হত্যার প্রতিবাদে উপজেলার সর্বত্রই প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আ’লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৯:৪০পিএম/৬/১/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি