• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন

এনবিআরে কর্মবিরতি, ওষুধ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা


প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৫, ৭:১৬ PM / ২৯১
এনবিআরে কর্মবিরতি, ওষুধ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

ঢাকারনিউজ : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি আলাদা বিভাগ করে যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে- তা বাতিলসহ চার দাবিতে আন্দোলন করছেন সংস্থাটির কর্মীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবারও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’।

আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে পরিষদ। তবে কাস্টমস হাউজ ও এলসি স্টেশনগুলো চালু থাকবে। এছাড়া ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদি আমদানি এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

রোববার (২৫ মে) সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মবিরতি চালিয়ে চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এসময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থবছরের শেষ প্রান্তে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে চার দাবি পূরণে সরকারকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে অনুরোধ জানায় পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপকর কমিশনার আব্দুল কাইয়ুম, রইসুন নেসা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার কী কারণে, কার প্রভাবে বা কোন অজুহাতে এখন বাস্তবায়ন করছে না- তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। যেহেতু আমাদের চার দাবি পূরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট ঘোষণা আসেনি, সেহেতু আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ সরকারের রাজস্ব নীতি এবং বাস্তবায়নকে পৃথকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব সংস্কারের পরিকল্পনায় একমত উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তবে জারিকৃত অধ্যাদেশে দুই বিভাগ গঠনের মাধ্যমে সংস্কারের যে অপরীক্ষিত মডেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। একটি স্বতন্ত্র রাজস্ব এজেন্সির পরিবর্তে দুটি বিভাগ গঠনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধির বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কর-রাজস্ব আহরণে জ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতাবিহীন কোনো গোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে কি না- এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

এতে বলা হয়, রাজস্ব সংস্কারের খসড়া প্রস্তুতির প্রক্রিয়ার শুরু থেকে প্রতিটি ধাপে এনবিআর চেয়ারম্যান চরম অসহযোগিতা করে আসছেন। সরকারকে ভবিষ্যৎ রাজস্ব কাঠামো নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা জানানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রশাসনের এই কর্মকর্তা (এনবিআর চেয়ারম্যান) তার পূর্ববর্তী পদে থাকা অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ জুলাই পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কর ফাঁকি বিষয়ে সহযোগিতা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ অডিট কার্যক্রম বন্ধ করেন। এছাড়াও, কিছুদিন আগে অযৌক্তিক এবং অপরিকল্পিত ভ্যাট হার বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেন। বর্তমানে বিভিন্ন উপায়ে তিনি সরকারের সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের গঠনমূলক ও সার্থক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অসহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের চার দাবি হলো-
১. জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে।
৩. রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এবং

৪. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া এবং পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনা করে প্রত্যাশী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।