ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরল ও কঠিন মানববর্জ্য মাইক্রোবিয়াল রিঅ্যাক্টরের সাহায্যে পুনরায় খাদ্যে পরিণত করা যাবে এবং ভবিষ্যতে মহাকাশযাত্রায় তা কাজে আসতে পারে।
লাইফ সায়েন্স ইন স্পেস রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটির দায়িত্বে ছিল পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি। মঙ্গল বা অন্য কোথাও মহাকাশচারীদের মিশনে পাঠানো হলে তারা নিজেদের মল ব্যবহার করেই খাদ্য উৎপাদন করতে পারে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন তারা।
‘আমরা এমন একটি ধারণা নিয়ে কাজ করছিলাম যাতে মহাকাশচারীদের বর্জ্য জীবাণুর সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করা যায় এবং উৎপাদন করা যায় এমন জৈব পদার্থ যা সরাসরি খাওয়া যাবে বা তা থেকে খাদ্য উৎপাদন করা যাবে’ বলেন গবেষক ক্রিস্টোফার হাউজ। তিনি পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির জিওসায়েন্স বিষয়ের অধ্যাপক।
বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (ISS) মহাকাশচারীরা নিজেদের মূত্র রিসাইকেল করেন। কিন্তু তাদের মল স্পেস স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশের পথে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সাম্প্রতিক এই গবেষণায় দেখা যায়, মল ও মূত্র দুইটিই কাজে আসতে পারে।
পেনসিলভেনিয়ার গবেষকরা আসল মল ও মূত্রের পরিবর্তে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট টেস্টে ব্যবহৃত তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করেন। ৪ ফুট লম্বা একটি সিলিন্ডারে এগুলো রেখে দেওয়া হয়। সেখানে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে জীবাণুরা একে ভেঙে ফেলে। সবশেষে M. capsulatus জীবাণুটি উৎপন্ন হয় যা ৫২ শতাংশ আমিষ ও ৩৬ শতাংশ চর্বি, এটা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়াও তারা আরো দুইটি পুষ্টিকর জীবাণু, Halomonas desiderata এবং Thermus aquaticus উৎপাদন করতে সক্ষম হন।
তবে এই পদ্ধতিতে আসলেই মহাকাশচারীরা নিজেদের মল থেকে খাবার তৈরি করবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র নাসাই নিতে পারে। সূত্র : IFLScience
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/২:১০পিএম/২৭/১/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি