ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ইসকোর পরিণতিটা যেন ঠিক অ্যালেক্সিস সানচেজের মতোই। গত মৌসুমে ফর্মটা একদমই ভালো ছিল না চিলিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিস সানচেজের। বিশেষ করে চিলি জাতীয় দলের জার্সিতে সানচেজের পারফরম্যান্স ছিল চরম হতাশাজনক। দলের অধিনায়কের এমন বাজে পারফরম্যান্স মানতে পারেনি চিলিয়ান সমর্থকরা। সানচেজের ফর্মখরার জন্য চিলিয়ান সমর্থকরা কাঠগড়ায় তুলেছিল তার বান্ধবীকে। তাদের অভিযোগ ছিল বান্ধবীর কারণেই সানচেজের এই করণ দশা। বান্ধবীর পাল্লায় পড়েই খেলায় মনোযোগ দিতে পারছে না। তাই সানচেজের বিরুদ্ধে চিলিয়ান সমর্থকরা আন্দোলনে নেমেছিল বান্ধবীকে পরিত্যাগ করার। আহ্বান জানিয়েছিল ‘বান্ধবী ছাড়, দলকে বিশ্বকাপে নাও।’
ইসকোর ঘটনা আরও গুরুতর। শুধু কাঠগড়ায় নয়, রিয়াল মাদ্রিদের এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের ফর্মখরায় তার বান্ধবী রীতিমতো মৃত্যু হুমকির মুখে! হ্যাঁ, সত্যিই তাই। ইসকোর ফর্মখরার কারণে তার বান্ধবী সারা সালামোকেই দায়ী করছেন ভক্ত-সমর্থকরা। কাঠগড়ায় তুলেই ক্ষান্ত হয়নি। বান্ধবী সারা সালামোকে রীতিমতো হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন ক্ষিপ্ত এক সমর্থক!
ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে গত মৌসুমটি এক কথায় অবিশ্বাস্য কাটিয়েছেন ইসকো। স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার এই মৌসুমটাও শুরু করেছিলেন দারুণ। চারদিকে ছিল ইসকোর প্রশংসার জোয়ার। কিন্তু হঠাৎ কি হলো। ‘জাদুকর’ খেতাব পেয়ে যাওয়া সেই ইসকোই দিনে দিনে নিজের ছায়ায় ঢাকা পড়তে থাকলেন। এখন পরিস্থিতি এতোই বাজে যে, রিয়ালের শুরুর একাদশে জায়গাটাই হারিয়ে ফেলেছেন। কোচ জিনেদিন জিদান তার উপর ভরসাই করতে পারছেন না।
কেন উড়ন্ত ফর্মে থাকা ইসকোর এই দুঃসময়। গবেষণা করে ভক্ত-সমর্থকরা আবিষ্কার করেছে, ইসকোর এই পরিণতির জন্য দায়ী একমাত্র তার বান্ধবী সারা সালামো। বান্ধবীর পাল্লায় পড়েই ইসকোর আর ফুটবলের প্রতি তেমন মন নেই! ফুটবলকে পেছনে ফেলে স্পেনের এই মিডফিল্ডার নাকি এখন বিভিন্ন নাইটক্লাব পার্টি আর ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতেই বেশি ব্যস্ত। আর পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে ইসকোকে দিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন সারা সালামো। স্পেনের এক জনপ্রিয় পত্রিকা এ সংক্রান্ত নিউজ করে মামলাও খেয়েছে!
পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা করলেও ক্ষিপ্ত সমর্ধকদের মুখ বন্ধ রাখতে পারছেন না সারা সালামো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে সমর্থকরা প্রতিনিয়তই ধুয়ে দিচ্ছেন সারা সালামোকে। নিজের রাগ-ক্ষো চেক দিতে না পেরে এক সমর্থক টুইটারে জীবনাবসানের হুমকিও দিয়েছে। লিখেছে, ‘তোমার সময় ফুরিয়ে আসছে!’
চতুর সারা সালামো অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই হুমকির বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছেন টুইটারে রিটুইট করে। রিটুইটে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালো পুলিশ, নারীবিদ্বেষী এক লোক আমাকে ভয়ানক ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে…।’ সারার রিটুইট দেখেই হুমকিদাতা তার অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের পোস্টটি মুছে ফেলেছেন। যদিও তার আগেই মানুষ টুইটটির স্কিন শট নিয়ে রেখেছে। বলা তো যায় না, কখন স্বাক্ষী-প্রমাণ দিতে হয়!
সারার রিটুইটের পর পুলিশও সারা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ রকম পরিস্থিতিতে কি করতে হবে, সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছে সারাকে।
দেখা যাক, হুমকিদাতা ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন, নাকি আরও বেপারোয়া হয়ে সত্যিই সারা সালামোর জীবনের শান্তি কেড়ে নেন!
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/২:০০পিএম/২৭/৩/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি