ঢাকারনিউজ২৪.কম, খুলনা : খুলনার দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের উপজেলা সভাপতি শেখ আবুল হোসেন স্থানীয় একটি সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী ওই পরিবারটির কর্তা, স্ত্রী, পুত্র এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলা-মারপিটও করেছে। ভয়ে তার এক ছেলে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
উপজেলার পরিচালনা গ্রামের মৃত ফনিভূষণ মন্ডরের ছেলে হরিদাস মন্ডল রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেনের পিতা মৃত আরশাদ আলীকেও যুদ্ধাপরাধী বলে আখ্যাদেন।
লিখিত বক্তব্যে বৃদ্ধ হরিদাস মন্ডল অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু এবং অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেন এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় পানখালি মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তার দখলীয় ৪ দশমিক ১২ একর জমি দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তিনি খুলনা জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে রিভিশন মামলায় স্থগিতাদেশ পেয়েছেন। কিন্তু তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। বাঁধা দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধাপরাধী পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের দখলবাজি থেকে মুক্তি পেতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় তার অসহায় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দখলবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, তিনি ৩০ বছর ধরে ওই জমি ভোগ-দখলে রয়েছেন। সেখানে তার বেশ কয়েকটি ভবনও রয়েছে। পক্ষান্তরে অভিযোগকারী হরিদাস মন্ডলের কোন দখলস্বত্ব নেই। সে খুলনার দু’টি আদালতে মামলা করে হেরে গেছে। পরে হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট’র স্থিতিবস্থা অনুযায়ী তিনি তার অবস্থানেই রয়েছেন। এছাড়া তার বাবা কখনই যুদ্ধাপরাধী ছিলনা দাবি করে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তার প্রতিপক্ষ ননী গোপাল মন্ডল কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৯:১২এএম/২২/৫/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি