আবু আফিফা : বিশ্বাসী মানুষ মাত্রেই আমরা সবাই জীবনের প্রতি মুহূর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে দোয়া করি। যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, অন্ধকার যতই ঘিরে ফেলুক চারপাশ, দয়াময় আল্লাহকেই ডাকুন। আল্লাহ খুব পছন্দ করেন বান্দা যদি তাঁকে ডাকে। তাঁর কাছে কাতর স্বরে প্রার্থনা করে। সবাই তার কাছে চাইলে রাগ বিরক্ত হয়, রাগ করে; কেবল আল্লাহর ব্যাপারটিই অন্য রকম। তিনি না ডাকলে রাগ করেন। না চাইলে বিরক্ত হন। সুবহানাল্লাহ!
তাই ছোট-বড় যেকোনো সংকট-সমস্যায় একদম প্রথমে কাউকে না বলে আল্লাহকে বলুন। দিল থেকে তাঁকে ডাকুন। গভীর আস্থা আর বিশ্বাস নিয়ে তাঁকে পাশে অনুভব করুন। সুবহানাল্লাহ কী বলব। তিনি আপনার ডাকে এমনভাবে সাড়া দেবেন যে আপনিই লজ্জা পেয়ে যাবেন। হায়, ডাকতেই তিনি সাড়া দিলেন! এত দ্রুত! এত কাছে! এতটুকু তো আমিই প্রত্যাশা করিনি! দেখুন আল্লাহ নিচের বাণীগুলো :
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)।
আপনি যেমন মানুষই হোন না কেন, আল্লাহই আপনার মালিক। তিনিই আপনার স্রষ্টা ও পালনকর্তা। আপনাকে আপনার রব কী বলছেন শুনুন : ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।’ (সূরা গাফির, আয়াত : ৬০)।
মানুষ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যখন সে নিজের অক্ষমতা ও সৃষ্টির ক্ষুদ্রতা পরিষ্কার দেখতে পায়, তখন তিনিই একমাত্র ভরসা। তাঁকে ডেকেই আমরা শক্তি ও সম্বল খুঁজে পাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বল তো কে নিঃস্বহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন?’ (সূরা নামল, আয়াত : ৬২)।
একবার ডেকে যদি মনে হয় দোয়া বুঝি কবুল হয়নি, তবুও হতাশ হবেন না। হাল ছাড়বেন না। তিনি যদি একটু দেরিতে সাড়া দেন, তাতেও আপনার জন্য মঙ্গল নিহিত আছে। আশা করুন তিনি সত্বরই সাড়া দেবেন, আবার আশংকাও করুন কোনো ভুল হলো কিনা। আল্লাহ মহান বলেন, ‘তাঁকে (আল্লাহকে) ডাক ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।’ (সূরা আরাফ, আয়াত : ৫৬)।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:২২পিএম/১২/২/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি