• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

“আগে সেবা দাও, পরে কর নাও” দাবিতে বাগাতিপাড়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৫, ১০:৫৮ PM / ৪২০
“আগে সেবা দাও, পরে কর নাও” দাবিতে বাগাতিপাড়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : “আগে সেবা দাও, পরে কর নাও”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অতিরিক্ত কর আরোপ, অনিয়ম এবং নাগরিক ভোগান্তির প্রতিবাদে পৌরবাসীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন।

রবিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে মালঞ্চি রেলগেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মালঞ্চি বাজার ঘুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পৌরসভার অব্যবস্থা, দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বিশেষ কাজে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর প্রশাসনিক কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে পৌরসভার নানা অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—বিদ্যুৎ ও পরিচ্ছন্নতার নামে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ, একাধিকবার কর আদায়, মৃত ব্যক্তির নামে বিল প্রদান, জন্ম ও মৃত্যু সনদে বানান ভুল, পরিষেবার বিনিময়ে পুনরায় অর্থ আদায়, দক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি এবং ড্রেনেজ, লাইটিং, রাস্তা, স্ট্যান্ড নির্মাণ, মশা নিধন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সুষ্ঠু বণ্টনের দাবি।

পৌরবাসীরা বলেন, “সেবা না দিয়ে কর আদায় করা চরম অন্যায়। পুরো পৌরসভায় মাত্র একটি ড্রেন থাকলেও তা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। বারবার টাকা আদায় জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ।”

তাঁরা আরও বলেন, “এখন পৌর নাগরিকরা যেন শুধু কর পরিশোধের যন্ত্রে পরিণত হয়েছেন। প্রয়োজনে কেউ পাশে থাকে না, এমনকি মৃত্যুর পর সনদেও ভুল থাকে, এটা যেন আরেকবার মৃত্যুই।” তাঁরা অভিযোগ করেন, কাজ শেষ না হতেই বিল উত্তোলন করা হয়, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে উন্নয়নকাজ চলে। এসবের সুষ্ঠু তদন্ত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

পৌরবাসীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্মারকলিপির ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবে।

বাগাতিপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুব হোসেন বলেন, “আমি নিজেও একজন পৌরবাসী। যেসব অযৌক্তিক কর আরোপ করা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। স্মারকলিপির ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার এবং আমি তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন জানান, “এই কর নির্ধারণ আমি যোগদানের আগেই করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেখানে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”