

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৯১ সালে হারিয়ে যাওয়া সেসময়ের মাত্র ৬ বছরের শিশু সুলতানা দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিরে পেতে চায় তার পরিবারকে। শিশুকালে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে সুলতানার বয়স এখন ৩৪। স্বামী নেই, সন্তান নেই, ঘর নেই, পরিবার নেই, আছে শুধু জীবনে অন্তত একবার হারানো বাবা-মাকে দেখার তীব্র আকাঙ্খা। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও অভাব-অনটনের কারণে চোখে মুখে বয়সের তুলনায় অত্যধিক ছাপ পরে যাওয়া সুলতানা প্রতিটা দিন অপেক্ষায় থাকেন- কখন তার বাবা-মা তার কাছে ছুটে আসবেন।
ঢাকারনিউজ২৪.কম এর সাথে আলাপকালে সুলতানা জানায়, ১৯৯১ সালের দিকে রেল স্টেশনে খেলাধুলা করতে গিয়ে ট্রেনে উঠে পরে সে। এক পর্যায়ে ট্রেনটি ছেড়ে দিলে ৬ বছরের শিশু সুলতানা আর নামতে পারেনি। ট্রেনটি রংপুরের যে কোন এক ষ্টেশনে গিয়ে থামার পর সে ওখানে নেমে পরে। সেইসময় স্থানীয় একজন স্কুল মাস্টার তাকে কুড়িয়ে পায়। ওখানেই সে বড় হতে থাকেন। এরপর কিশোরী বয়সে এসে বিয়ে হলেও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সেই থেকে এটা ওটা করেই একার জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন আজকের প্রায় ৩৪ বছরের নারী সুলতানা। বর্তমানে সে ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
সুলতানা আরো জানায়, সেইসময় সেই স্কুল মাস্টারের কাছে তিনি তার বাবার নাম কাশেম আলী এবং মায়ের নাম রাবেয়া বেগম বলে জানান। এছাড়া তাদের বাড়ির পাশে রেলস্টেশন ও একটি চিনির মিল ছিলো। এর বেশি কিছু তার আর মনে পড়েনা।
এদিকে হারিয়ে যাওয়ার সময় তার পরনে ছিলো-সাদা রং এর কালো ফোটা ফোটা ফুল থ্রি কোয়াটার হাতার ফ্রক ও হাফ-প্যান্ট। এর বাইরে তার আর তেমন কোন স্মৃতি মনে নেই।
ঢাকারনিউজ এর সাথে আলাপকালে আবেগাপ্লুত এই নারী জানান, ”আপনাদের কাছে আমার আকূল আবেদন আপনারা আমার বাবা-মা’কে খুঁজে দেন। এখন ইন্টারনেট-ফেসবুকের যুগ, আপনারা একটু চেষ্টা করলেই আমি আমার পরিবারকে ফিরে পেতে পারি।”
যদি কোনো সহৃদয়ববান ব্যক্তি সুলতানার পরিবারে খোঁজ জেনে থাকেন, তাহলে আমাদের ঢাকারনিউজ২৪.কম এর এই ঠিকানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল। (ঢাকা কার্যালয় : হাউজ নং-২৮, রোড নং – ৯/১, নিকুঞ্জ-১, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯। আঞ্চলিক কার্যালয় : ৬৯/৩ উত্তর চাষাঢ়া (এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পার্শ্বে), চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ।০১৬৭১৩৩৫২৭৭, ০১৭৬৮৩৬০৫০৭)
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:০৭পিএম/১/৭/২০১৯ইং)
আপনার মতামত লিখুন :