

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : গত এক বছরে মিয়ানমারের রাখাইনে অন্তত ১৮ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসময় দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংশতায় অন্তত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা বইয়ে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
‘ফোর্সড মাইগ্রেশন অব রোহিঙ্গা : দ্য আনটোল্ড এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক বইয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বুধবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক বিশেষ অধিবেশনে গবেষণাগ্রন্থটি উপস্থাপন করা হয়।
বইটি প্রকাশ করেছে কানাডার বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ওআইডিএ)।
রাখাইন রাজ্যের মানচিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের চিরতরে তাড়িয়ে দিতে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে তাণ্ডব শুরু করেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ২ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণাগ্রন্থটি তৈরি করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গার অভিজ্ঞতা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৩টি শিবিরের প্রতিটি থেকে ১০০ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ২৩ মহকুমার ১ হাজার ৩০৬ গ্রামের অধিবাসী।
সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই বলেছেন, তারা মৌখিক কিংবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯৩ ভাগই বঞ্চনার শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। ৭৯ শতাংশই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে। এমনকি তাঁরা স্কুল (৭৬ শতাংশ), থানা (৬৩ শতাংশ) ও ব্যাংকে (২৭ শতাংশ) বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
বইটি যৌথভাবে লেখা ও সম্পাদনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক ক্রিস্টিন জুব ও ড. মোহসিন হাবিব, অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের পরিবেশ, ভূমি, পানি পরিকল্পনা বিভাগের গবেষক সালাহউদ্দিন আহমেদ, কানাডার লরেন্টিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেনরি পিলার্ড এবং নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব নরডল্যান্ডের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:১৫পিএম/১৭/৮/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :