• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

পলাশবাড়ীসহ গাইবান্ধার নদীর চরে ফসলের সমারোহ


প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০১৭, ২:৪৮ PM / ১২৭
পলাশবাড়ীসহ গাইবান্ধার নদীর চরে ফসলের সমারোহ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার করতোয়া আখিরা ও নলেয়া নদীর চরে এখন ফসলের সমারোহ। চরের মাটিতে গড়ে উঠছে নানা ফসল। চলতি মৌসুমে করতোয়া নদীর উজান থেকে ভাটির পর্যন্ত বিস্তীর্ণ চরে এবার চাষ হয়েছে হয়েছে সরিষা, টমেটো, ভুট্টা, মাসকলাই, কাঁচা মরিচ।

চলছে বোরো ধান রোপনের কাজ। নদী ভাঙ্গা বিপর্যস্ত মানুষের মুখে এখন সুখের হাসি। বর্ষা মৌসুমে রাক্ষুসী নদী বসত ভিটা কেড়ে নিলেও এখানকার উৎপাদিত ফসল তাদের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। চরের যেদিকে তাকানো যায় শুধু ফসল আর ফসল। নানা ধরনের ফসল চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। একারণে তারা মুক্তি পেয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে।নদী বেষ্টিত বিস্তীর্ন চরে সরিষা, টমেটো, বাদাম, ডাল, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, মিষ্টি আলু, ধনে সহ নানা ফসল চাষ করে চরের মানুষ সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। নদী ভাঙ্গনে শিকার এসব মানুষ অভাব-হতাশকে পেছনে ফেলে নতুন করে আবাদ করে,নতুনভাবে অবতীর্ন হয়েছে জীবনযুদ্ধে।

দারিদ্র্যজয়ী নদী তীরের মানুষ এ বছর শীতের ফসল চাষ করে শত ভাগ সাফল্য পেয়েছে। আমন ধানের বাম্পার ফলনের পর সরিষার ও ভুট্টার বাম্পার ফলনে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। গাইবান্ধার নদী পাড়ের মানুষের আশীর্বাদও যমুনা ও তিস্তা। নদী শুধু নিতে জানে না দিতেও জানে। রাক্ষুসী যমুনা যেমন প্রতি বছর ভেঙ্গে ফেলছে বিস্তৃীর্ন জনপথ, ফসলের মাঠ। সেই যমুনাই পলি জমিয়ে সেখানে সোনার ফসল ফলাতেও সমান ভূমিকা রাখছে। জেগে ওঠা এসব চরে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষে যমুনা আর্শীবাদ হয়ে দেখা দেয় নদী পাড়ের মানুষের জীবনে। চরের পলি পড়া জমিতে পাট, ভুট্টা, সরিষা, বাদাম ও বোরো সহ অন্যান্য ফসল আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। উজানের কাজীপুর থেকে ভাটির চৌহালী পর্যন্ত নদী পথের বিস্তৃীর্ন চরে এসব ফসল আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পুঁজি পেলে এসব ফসল চাষের পরিধি আর বিস্তৃতি লাভ করবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা লোকশান পোষাতে মৌসুমের শুরুতেই আট ঘাট বেধে চরের জমিতে নিরলসভাবে শ্রম ব্যয় করেন। কৃষকের ঘামে আর শ্রমে সরিষার ও ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।তবে জেলা বা উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্চে না কৃষকরা। মোল্লার চর ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশেষ করে পাট ও মরিচের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে সানন্দবাড়ীা চরের হাট।

দেশ বিদেশের ব্যবসায়ীরা এখানাকার হাটে আসছেন প্রতিনিয়ত। মালামাল নিয়ে তাদের নৌকা পথে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় ডাকাতদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয় ব্যবসায়ীদের। যে কারণে অনেক ব্যবসায়ী চরের হাটে আসতে চান না। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হলে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা ঘটবে এসব হাটে। চরের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে স্ববলম্বী চরের অধিকাংশ কৃষক। তাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষাও গ্রহণ করছেন। সংসার থেকে দুর হয়েছে অভাব-অনটন। তেমনই এক কৃষক আকতার হোসেন।

নদীতে বাড়ি ঘর হারিয়ে নিঃস্ব এই কৃষক জেগে উঠা চরে পাট ও আমন ধানের পর এবার বোরো ধান রোপন করছেন। নৌকার মাঝি গনি বলেন, চরের জমিতে ফসল ফলিয়ে অনেকেই অর্থ-বিত্ত সম্পন্ন। ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করি জমি। ফলায় ধান, টমেটো, গম, পাট, ডাল, সবজি, চিনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন ,তিল সহ নানা ফসল। উৎপাদিত ফসলে নিজের চাহিদা মেটানোর পর উত্তরাঞ্চলের জেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করি।
চরে শুধু ফসল হয় না এখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি,স্কুল ,কলেজ, মাদ্রসা, খামার, চাতাল। প্রতিটি ঘরে ঘরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতের শহরের মতো চর গুলোও এখন আলো ঝলমলে।গাইবান্ধার এরেন্ডবাড়ির ছাইফুল ইসলাম বলেন, এনজিও থেকে ৭ হাজার ২শ ৬০ টাকা ঋণ নিয়ে ৬৬ শতক জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়ে। বাজারে মরিচের দাম ও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি ঋণ পরিশোধ করে এবার ভালো টাকা লাভবান হওয়া যাবে।

পলাশবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, এবছর যমুনা নদীতে গাইবান্ধার বিভিন্ন চর অঞ্চলে ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানে আবাদ করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয়না। বর্ষ মৌসুমে চরগুলোতে পানিতে ডুবে থাকে। ডুবে যাওয়া চরে ব্যাপক হারে পলি জমে। পানি চলে যাওয়ার সাথে সাথে চাষিরা নানান ধরনের ফসলের আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জমিতে পলি পড়ায় ক্ষেতে সারের পরিমান কম লাগে। এতে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/২:৪৫পিএম/৫/৩/২০১৭ইং)