

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : সামরিক গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এতো সহজভাবে নিচ্ছে না রাশিয়া। সিরিয়ার আকাশে ইসরায়েলি জঙ্গি বিমানের দাপিয়ে বেড়ানো থামাতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গত সপ্তাহে সিরিয়ার লাটাকিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল। সিরীয় সেনাবাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে পাল্টা জবাব দেয়। ওই সময় ১৫ আরোহীসহ রাশিয়ার একটি সামরিক গোয়েন্দা বিমান ভূমধ্যসাগরের লাটাকিয়া উপকূল ঘেঁষে উড়ছিল।
হামলার পর সিরীয় আকাশসীমা ছেড়ে যাওয়ার সময় রুশ গোয়েন্দা বিমানটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো। এসময় সিরীয় সেনাবাহিনীর ছোঁড়া বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ভুলক্রমে আঘাত হানে রুশ গোয়েন্দা বিমানে। এতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ আরোহীসহ ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়।
এঘটনায় ইসরাইলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয় রাশিয়া। বিমান ভূপাতিত হওয়ার জন্য ইসরাইলকে দোষারোপ করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পুতিন মুখে তেমন কড়া কিছু না বললেও ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কী ব্যবস্থা নেয়া হবে শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।’
মূলত পুতিন তার বক্তব্যে সিরিয়াকে অত্যাধুনিক এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিরীয় সেনাবাহিনীতে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যোগ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী রুশ গণমাধ্যম আরটি ডটকম।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলেছে, সিরিয়ায় আসন্ন হামলার বিষয়ে ইসরাইল রাশিয়াকে অবহিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সিরিয়ার পাল্টা হামলায় রুশ বিমান ভূপাতিত হয়। এজন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন।
এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আসাদ বাহিনীকে দেয়া হলে সিরিয়ায় ইসরাইলের অবাধ বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। কয়েক বছর আগে দামেস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনলেও ইসরাইলের আপত্তির কারণে তা সরবরাহ করছিল না রাশিয়া।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২০১৩ সালে ইসরাইলের অনুরোধে সিরিয়াকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেয়ার বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছিল। এখন সেগুলো সিরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করার জন্য সিরীয় ক্রুদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।’
ইসরাইলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, ‘এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে, আর এটা আমাদের কারণে হয়নি।’
সিরিয়ার কাছে এখন যেসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো অনেক পুরনো মডেলের। এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ২৫০ কিলোমিটার। এটি সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে। অবশ্য এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করেই হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে ইসরাইল।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:৫৪এএম/২৫/৯/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :